যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন- ১৯৫৪
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা (নির্বাচনের ইশতিহার) ২১ দফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা। করা। ১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ ই মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। সরকারিভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয় ২রা এপ্রিল। নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯ টি (মুসলিম আসন-২৩৭টি এবং অমুসলিম আসন ৭২টি)।
জেনে নিই
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে।
- ২১ দফা প্রকাশিত হয়- ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে।
- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের (৮-১২) মার্চে ।
- যুক্তফ্রন্ট- ২২৩ টি আসনে জয় লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল- নৌকা।
- পরাজিত মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল- হ্যারিকেন।
- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের বিজয়কে আখ্যায়িত করা হয়- ব্যালট বিপ্লব হিসাবে।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ক্ষমতায় ছিল মাত্র- ৫৬ দিন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে- ৪ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে ।
- মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন- এ. কে ফজলুল হক।
- যুক্তফ্রন্টের কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লীমন্ত্রী ছিলেন- শেখ মুজিবুর রহমান।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেওয়া হয়- ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
একুশ দফা : সংক্ষেপে পরিচিতি
একুশ দফা ছিল যুক্তফ্রন্টের ঘোষিত নির্বাচনী কর্মসূচি। ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগ শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলীম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
এই জোটের প্রধান নেতারা ছিলেন—
- শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
- হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
যুক্তফ্রন্ট যে ২১টি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, সেটিই ইতিহাসে একুশ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
একুশ দফা কর্মসূচি (টেবিল)
| দফা | বিবরণ |
|---|---|
| ১ | বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে। |
| ২ | বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ, উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন ও খাজনা হ্রাস। |
| ৩ | পাটব্যবসা জাতীয়করণ ও পাট কেলেঙ্কারির তদন্ত। |
| ৪ | কৃষিতে সমবায় প্রথা ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন। |
| ৫ | পূর্ববঙ্গকে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। |
| ৬ | কারিগর ও গরিব মোহাজেরদের কর্মসংস্থান। |
| ৭ | খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধ। |
| ৮ | কৃষি ও শিল্পের আধুনিকায়ন এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। |
| ৯ | অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন। |
| ১০ | শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও মাতৃভাষায় শিক্ষাদান। |
| ১১ | ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়াশীল আইন বাতিল। |
| ১২ | শাসনব্যয় হ্রাস ও মন্ত্রীদের সীমিত বেতন। |
| ১৩ | দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ দমন। |
| ১৪ | কালাকানুন বাতিল, নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত। |
| ১৫ | বিচারবিভাগকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথক করা। |
| ১৬ | বর্ধমান হাউসকে ছাত্রাবাস ও বাংলা গবেষণাগারে রূপান্তর। |
| ১৭ | শহিদ মিনার নির্মাণ ও শহিদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ। |
| ১৮ | ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা। |
| ১৯ | পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন। |
| ২০ | নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা ও মন্ত্রিসভার মেয়াদ বৃদ্ধি না করা। |
| ২১ | উপনির্বাচনের ব্যবস্থা ও পরাজয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার পদত্যাগ। |
একুশ দফার ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। পূর্ববাংলা আইন পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৮টি আসন জয় করে মুসলিম লীগকে চরমভাবে পরাজিত করে।
এই বিজয় পূর্ববাংলার রাজনৈতিক চেতনাকে নতুন দিশা দেয় এবং পরবর্তীকালে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টির নেতা ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক।
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা ছিলেন মাওলানা মোতাহার আলী ।